img


ত্রিপুরায় সাংস্কৃতিক বিপ্লব: আত্মপ্রকাশ করল 'আর্য্য ভারতী সংগীত পরিষদ'


 আইনেট  প্রতিনিধিঃ     ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ও চারুকলার ঐতিহ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিভা বিকাশে এক অনন্য মাইলফলক স্থাপিত হলো। শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং শনিবার, ধর্মনগরে এক বর্ণাঢ্য সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করল 'আর্য্য ভারতী সংগীত পরিষদ'। ভারত সরকারের ট্রাস্ট এক্ট ১৮৮২-এর অধীনে নিবন্ধিত এই সংস্থাটি ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম সরকার অনুমোদিত সংগীত ও চারুকলা পরীক্ষা পরিষদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। সংস্থার নামকরণের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর মূল দর্শন। সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষদের সম্পাদক শ্রী দীপান্তর দেব অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে 'আর্য্য ভারতী সংগীত পরিষদ' নামের সার্থকতা ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, 'আর্য্য' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো অভিজাত, শ্রেষ্ঠ বা সজ্জন। প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতায় যাঁরা জ্ঞান, কৃষ্টি এবং উন্নত জীবনবোধের চর্চা করতেন, তাঁদের আর্য্য বলা হতো। সংগীতের ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহারের তাৎপর্য হলো এটি সংগীত এবং চারুকলাবিদ্যার শুদ্ধতা ও আভিজাত্যকে নির্দেশ করে। প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং সেই ধারাকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। 'ভারতী' শব্দটি সরাসরি দেবী সরস্বতীকে নির্দেশ করে, যিনি বিদ্যা, শিল্প এবং সংগীতের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। এর পাশাপাশি এটি ভারতবর্ষের সংস্কৃতি ও চেতনাকে তুলে ধরে। সংগীতের মাধ্যমে জ্ঞান ও বাণীর সাধনা করা এই নামের মূল লক্ষ্য। 'পরিষদ' অর্থ হলো একটি সভা, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্মকে বোঝায় যেখানে সংগীতের চর্চা, গবেষণা এবং প্রসার ঘটে। একত্রে "আর্য্য ভারতী সংগীত পরিষদ" নামটির অর্থ দাঁড়ায়- এমন একটি উচ্চতর প্রতিষ্ঠান, যা ভারতীয় আর্য্য সংস্কৃতির শুদ্ধতা বজায় রেখে দেবী ভারতীর (সরস্বতী) আশীর্বাদধন্য সংগীত ধারাকে সাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। এই নামটির মাধ্যমে শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি এক ধরনের পবিত্রতা এবং দায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়, যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের কাছেই একটি আদর্শ হিসেবে কাজ করে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সভাপতি দেবযানী চক্রবর্তী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্য-সদস্যাবৃন্দ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা জানান, বর্তমান সময়ে সংগীত ও চারুকলা শিক্ষার ক্ষেত্রে যে বাণিজ্যিকীকরণ দেখা যাচ্ছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে শুদ্ধ রূপটি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। পরিষদের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হলো ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ও সংস্কৃতির যথাযথ চর্চা ও প্রসার, শুদ্ধ সংগীত শিক্ষার মান বজায় রাখা, সংগীত ও চারুকলায় পারদর্শীদের নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি প্রদান করা। বাজারে প্রচলিত অন্যান্য পরীক্ষা পরিষদের ভিড়ে 'আর্য্য ভারতী সংগীত পরিষদ' কেন আলাদা এবং ছাত্র-ছাত্রীরা কেন এই পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হবে, তার সপক্ষে সম্পাদক শ্রী দেব বেশ কিছু বৈপ্লবিক বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেন। ত্রিপুরায় এর আগে সরকারি নিবন্ধীকরণ প্রাপ্ত এমন কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ সংগীত পরীক্ষা পরিষদ ছিল না। ফলে স্থানীয় শিল্পী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেক ক্ষেত্রেই বহিঃরাজ্যের সংস্থাগুলির ওপর নির্ভর করতে হতো। 'আর্য্য ভারতী সংগীত পরিষদ' সেই শূন্যতা পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সভাপতি দেবযানী চক্রবর্তী বলেন, আমরা কেবল একটি সার্টিফিকেট বিতরণের সংস্থা হতে চাই না। আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে শিল্পের প্রতি ভালোবাসা এবং সঠিক জ্ঞান গড়ে উঠুক। আমাদের দরজা ত্রিপুরার প্রতিটি প্রান্তের সংগীত অনুরাগীদের জন্য উন্মুক্ত। পরিশেষে, সম্পাদক শ্রী দীপান্তর দেব রাজ্যের সমস্ত সংগীত ও চারুকলা শিক্ষা কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানান, তারা যেন এই নতুন যাত্রায় শামিল হয়ে ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে আরও উজ্জ্বল করে তোলেন।