
আইনেট প্রতিনিধিঃ উদয়পুর শহরে চুরির ঘটনা যেন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতদিন পুরুষ চোরদের দৌরাত্ম্যের কথা শোনা গেলেও এবার এক মহিলা চুরির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরজুড়ে। শুক্রবার গদা চৌমুহনি সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত এক চুরির ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে রাধাকিশোরপুর থানা পুলিশ। জানা যায়, গদা চৌমুহনি সংলগ্ন জনৈক কেশব পালের বাড়ির ভাড়াটিয়া ডক্টর অর্পণ ভট্টাচার্য্যের ঘরের লকার থেকে একটি মানিব্যাগ চুরি হয়ে যায়। মানিব্যাগের মধ্যে ছিল প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। শুক্রবার সকালে গোমতী জেলা হাসপাতালে যাওয়ার পথে তিনি লকারে মানিব্যাগটি না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান করেও না পেয়ে তিনি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলা কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে লকার থেকে মানিব্যাগটি নিয়ে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাধাকিশোরপুর থানায় জানান এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশকে প্রদান করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাঞ্জলি রায়-এর তত্ত্বাবধানে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু হয়। ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতেই গকুলপুর এলাকায় তার বাপের বাড়ি থেকে অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে চুরি হওয়া ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ২৩ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ধৃত মহিলার নাম রিঙ্কু দেবনাথ (৪৪)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন বা ড়িতে কাজের অজুহাতে প্রবেশ করে সুযোগ বুঝে চুরি করতেন। শনিবার তাঁকে আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে জেলা দায়রা ও জজ আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাঞ্জলি রায়। এই ঘটনাকে ঘিরে শহরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধার করায় পুলিশকে সাধুবাদ জানানো হলেও, অন্যদিকে সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন এত চুরির উপদ্রব বেড়ে চলেছে? পূর্ববর্তী একাধিক ঘটনার ক্ষেত্রে চোরদের শনাক্ত করতে বিলম্ব কেন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও কড়া নজরদারি ও নিয়মিত টহলের দাবি তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। উদয়পুর শহরে চুরির লাগাম টানতে প্রশাসনের আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের দিকে এখন তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।