
আইনেট প্রতিনিধিঃ উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর মহকুমার কালাছড়া ব্লকের ইচাই সোনাপুর এলাকার ১ নং ওয়ার্ড সংলগ্ন নদী ভাঙন প্রতিরোধে শুরু হওয়া এল.আই স্কিমের কাজ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।অভিযোগ উঠেছে, জনস্বার্থে গৃহীত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কার্যত ‘লুটের মঞ্চে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে গুণগত মানের কোনো বালাই নেই, বরং সরকারি অর্থের চরম অপচয় ঘটছে দিনের পর দিন।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নদী ভাঙন রোধে যে কংক্রিট ব্লক তৈরি করা হচ্ছে, তা আদৌ কোনো মানসম্মত নির্মাণ নয়। ব্লকের ভিতরে সিমেন্টের পরিমাণ প্রায় নামমাত্র, অধিকাংশই বালু ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি। ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ব্লকগুলো নদীর ধারে বসানোর আগেই ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। এতে স্পষ্ট যে কাজটি শুধু নিম্নমানেরই নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে অবৈজ্ঞানিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।এই প্রকল্পটি ধর্মনগর জল সম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধীনে পরিচালিত হলেও, বাস্তবে এর কার্যকরী তদারকির কোনো চিহ্ন নেই বলেই অভিযোগ। বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার হিসেবে উঠে এসেছে ধর্মনগরের এক বিতর্কিত ব্যক্তি সিদ্ধার্থ চক্রবর্তীর নাম, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘নিগো মাফিয়া’ হিসেবে কুখ্যাত বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ,ধর্মনগরের প্রয়াত বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেনের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে তিনি একাধিক বড় প্রকল্পের কাজ পেয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।এলাকাবাসীর অভিযোগ এখানেই থেমে নেই। তাঁদের দাবি, ২০১৮ সালে রাজ্যে বিজেপি জোট সরকার গঠনের পর থেকে গত সাত বছরে সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী বিপুল পরিমাণ সরকারি কাজের বরাত পেয়েছেন এবং সেই সূত্রে কয়েকশো কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছেন।এই দাবির ভিত্তিতে ধর্মনগরের সাধারণ মানুষের মনে গভীর সন্দেহ ও ক্ষোভের দানা বেঁধেছে। ইচাই সোনাপুরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প তাঁদের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। প্রতি বর্ষায় নদীর ভাঙনে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জমি ও ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাতে হয়।অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ দেখে তাঁরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাঁদের মতে, “এই কাজ যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে নদী ভাঙন রোধ তো দূরের কথা, বরং বিপদ আরও বাড়বে।” এলাকাবাসী প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা চোখে কাপড় বেঁধে বসে আছেন, কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে এই অনিয়মের দিকে নজর দিচ্ছেন না। ফলে ঠিকাদার নির্বিঘ্নে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে