
আইনেট প্রতিনিধিঃ বুধবার গভীর রাতে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশের তৎপরতায় ফাঁস হয়ে গেল আরও এক ভয়ঙ্কর মাদক চক্রের নীলনকশা! উদ্ধার হলো ৬০০-রও বেশি অবৈধ এস কফের বোতল, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৬ লক্ষাধিক টাকা। তবে প্রশ্ন উঠছে— এত বড় মাদক কারবার কি শুধুই গাড়ি চালকের একার খেলা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনও সিন্ডিকেট? ঘটনার বিবরণ জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে মহারানীপুর এলাকায় নিয়মিত টহলদারি চালানোর সময় তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশের নজরে আসে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা TR01BV0637 নম্বরের একটি সন্দেহজনক ইকো গাড়ি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেতেই মুহূর্তের মধ্যে চম্পট দেয় গাড়ির চালক। এরপর গাড়িটিতে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে একের পর এক বস্তাবন্দি এস কফের বোতল! উদ্ধার হয় ৬০০-র অধিক বোতল, যা দেখে রীতিমতো চক্ষুচড়কগাছ পুলিশেরও।পুলিশ উদ্ধার হওয়া মাদক সামগ্রী এবং গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করে তেলিয়ামুড়া থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া এস কফের কালোবাজারি মূল্য আনুমানিক ৬ লক্ষাধিক টাকা এবং ইকো গাড়িটির মালিকের নাম নয়ন রায়। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো— এই একই গাড়িটি চলতি মাসের ১৭ তারিখ গামাইবাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মদ সহ পুলিশের জালে ধরা পড়েছিল! অর্থাৎ, একই গাড়ি বারবার অপরাধে ব্যবহৃত হলেও প্রশ্ন উঠছে— এতদিন ধরেই কি নির্বিঘ্নে চলছিল এই মাদক সাম্রাজ্য?বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে তেলিয়ামুড়া থানাধীন গৌরাঙ্গটিলা এলাকার এক যুবক এবং আগরতলার এক যুবকের সরাসরি যোগ রয়েছে। ফলে গোটা ঘটনাকে ঘিরে জোরালো হচ্ছে আন্তঃজেলা মাদক সিন্ডিকেটের আশঙ্কা। এখন দেখার বিষয়— পলাতক গাড়ি চালককে পুলিশ কত দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারে। কারণ, চালক ধরা পড়লেই বেরিয়ে আসতে পারে এই মাদক কারবারের আসল “মাস্টারমাইন্ড”-দের নাম, এবং উন্মোচিত হতে পারে তেলিয়ামুড়া জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মাদক চক্রের অন্দরমহল।