
আইনেট প্রতিনিধিঃ ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের চক্ষু চিকিৎসক এবং উনার টিমের তৎপরতায় আঘাত লেগে ফেটে যাওয়া বা ‘ওপেন গ্লোব ইনজুরি’ হয়ে যাওয়া চোখটির সফল অস্ত্রোপচার হল এবং তাতে ছোট শিশু প্রীতির চোখটা রক্ষা পেল। প্রীতির বাবা পঙ্কু ভুইয়া ও মা মন্দিরা ভূমিজ ঘটনার বিবরনে জানান,, তারা ধর্মনগর মহকুমা অন্তর্গত পাবিয়া ছড়ার বাসিন্দা। তারা দুজনেই চা বাগানে কাজ করেন বিগত ১৭ মে ২০২৬ তারিখের মা গিয়েছিলেন বাগানে টাকা আনতে এবং বাবা ছিলেন স্নানে সেই সময় দুই বছর চার মাসের বয়সে প্রীতি ভূঁইয়া বাড়ির উঠানে ভাইয়ের সাথে খেলতে খেলতে এক দুর্ঘটনার স্বীকার হয় এবং কোনো ধারালো বস্তুর আঘাতে শিশুটির বাঁ চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রক্তক্ষরণ তৎক্ষণাৎ বাচ্চার চিৎকার শুনে মা-বাবা প্রতিবেশী সহ মেয়ের এমন অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারপর সময় নষ্ট না করে তাঁরা দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় নিয়ে যায় সেখাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তবে শিশুদের চোখের এত ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখে সাথে সাথে তারা ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করেন ।ডক্টর সন্দীপক রায় জানান,,১৭ ই মে রবিবার রাত্রি আটটা নাগাদ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন, শিশুটির বা চোখে ‘ওপেন গ্লোব ইনজুরি’ হয়েছে এবং অতিরিক্ত আঘাতে কর্নিয়া ফেটে গিয়ে চোখের মণি বা আইরিস বেরিয়ে এসেছিল, যা রেটিনা বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো চরম ঝুঁকি তৈরি করেছিল। এই অবস্থা দেখে আগরতলা জীবি হাসপাতালে রেফার করার কথা বললে প্রীতির মা বাবা বলেন তারা যেতে পারবেন না তাদের পারিবারিক অসুবিধা রয়েছে যার জন্য যা যা করার ধর্মনগরেরই থেকে তাদের যেন করে দেন তারা। তারপর বাবা-মার পারমিশনের পেরে পরিস্থিতি বিবেচনায় করে চিকিৎসকরা অবিলম্বে একটি মেডিকেল টিম তৈরি করেন এবং অত্যন্ত জটিল এই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন এবং অপারেশন টি শুরু হয় তারপর সফলভাবে অপারেশন টি সম্পন্ন হয়। তবে ডক্টর সন্দীপক আরো জানান যে এই এত ছোট বাচ্চার অপারেশনের জন্য যে ধরনের মেশিন যন্ত্রপাতির বা ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল, তার অধিকাংশই ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে নেই। তবে যা যন্ত্রপাতি আছে তা দিয়েই এই ছোট শিশুটির অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং এটি জেলার প্রথম জটিলতম অপারেশন যা এত ছোট শিশুর চোখে করা হয়েছে জেনারেল এনোসথেসিয়া দিয়ে । টিমের সদস্যরা ছিলেনসার্জন ডা সন্দীপক রায়,অ্যানাসথেটিস্ট,ওটি অ্যাসিস্ট্যান্ট,ওনার্সি।ডা: রায় আরো জানান বাচ্চাটিকে আট দিনের দিন ছুটি দিয়ে দিলেও এখন থেকে তারা অবজারভেশনে রাখবেন। এই শিশুর চোখে এত বড় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় মা বাবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডক্টর সন্দীপক রায় এবং টিমের কাছে।