img


উদয়পুর রাজর্ষি কলাক্ষেত্র আজ ধ্বংসের কিনারায়। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবার দাবি জানিয়েছে সাংস্কৃতিক প্রেমিকারা।


আইনেট  প্রতিনিধিঃ     উদয়পুরের সাংস্কৃতিক জগতের শিল্পীদের দীর্ঘ বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল উদয়পুরে একটি ভালো হল নির্মাণ হোক। এই দাবিকে মান্যতা দিয়ে ৪ অক্টোবর ২০১০ সালে তৎকালীন সরকার জায়গা ব্যবস্থা করে কাজ শুরু করে রাজর্ষি হলের। আর তৎকালীন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের হাত দিয়ে ৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে রাজর্ষি কলাক্ষেত্রের উদ্বোধন হয়। ১২ বছর হয়নি আজ এই রাজর্ষী কলাক্ষেত্র ধ্বংসের কিনারা এসে দাঁড়িয়েছে। উদয়পুরে সাংস্কৃতিক প্রেমীদের বক্তব্য উদয়পুর পৌর পরিষদ কি করছে। উদয়পুরে সাংস্কৃতিক জগতের পাশাপাশি যারাই শহরকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার কথা আজ অভিযোগ করছে   পৌর পরিষদ ঘুমিয়ে আছে। এই কলাক্ষেত্রের ছাদের উপরে আগাছায় ভর্তি। চারিদিকে জঙ্গলময়। জলের ট্যাংকি গুলোতে জল নেই। শৌচালয় গুলো ব্যবহারের অযোগ্য। বসার আসনগুলোতে ঠিক মত বসা যায় না। এসি গুলো নষ্ট। জেনারেটর চলে না। অথচ যারা এ হলটা ব্যবহার করবে তাদেরকে নির্দিষ্ট পয়সা দিয়েও পরিষেবা দিতে পারছে না উদয়পুর পৌর পরিষদ। ড্রেনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নেই। হলের চারিপাশে প্রয়োজনে বিদ্যুৎ নেই। নাগরিক সুবিধা আজ শূন্যের কৌটায়। সাংস্কৃতিক বিনোদনের জন্য বিকল্প কোন উদয়পুরে হল নেই। তাই সাংস্কৃতিক জগতের শিল্পীরা নির্দিষ্ট পয়সা দিয়ে পরিষেবা নিতে পারছে না এই হল থেকে। যে মাইক্রোফোনগুলো আছে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে মাইক্রোফোন ভাড়া আনতে হচ্ছে। হলটা দেখার মতন নির্দিষ্ট কেউ নেই। প্রশ্ন উঠছে এত টাকাগুলো যাচ্ছে কোথায়। উদয়পুরের মানুষের শৌচালয় পরিষ্কারের জন্য একটি সেস গাড়ি ছিল। বর্তমানে ময়লাগুলো ফেলার জন্য ডাম্পিং স্টেশন নেই দেখে গাড়িটা ফেলে রাখা হয়েছে। বর্তমানে উদয়পুর মানুষের শৌচালয়ের পরিষ্কারের জন্য অমরপুর থেকে বেশি পয়সা দিয়ে দাড়িয়ে আনতে হচ্ছে। এই ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ নীরব দর্শক। আরো মজার ঘটনা যারাই হলটা ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট পয়সা দিয়ে ভাড়া নিচ্ছেন পরিষেবা দেবার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। একরাশ ক্ষোভ জানিয়ে উদয়পুরের সাংস্কৃতিক জগতের এবং শুভবুদ্ধি সম্পন্ন জনগণের একটাই দাবি উদয়পুর পৌর পরিষদ যেন এই রাজষী কলাক্ষেত্রকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এখন থেকে উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করা দরকার। কারণ উদয়পুরে আর কোন হল নেই ইচ্ছা করলেই মানুষ বিকল্প হল ঘরে যাবে। শাসকদলের চারজন বিধায়কদের মধ্যে একজন মন্ত্রীও রয়েছেন ইচ্ছে করলেই তারা প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করে হল টিকে ব্যবহারে জন্য পদক্ষেপ নিতে পারে উদয়পুরের সাংস্কৃতিক এবং শুভবুদ্ধি সম্পন্ন জনগণ।