img


হাসপাতাল নাকি নৈরাজ্যের আঁতুড়ঘর!’ বিধায়িকার হানা,


আইনেট  প্রতিনিধিঃ     দীর্ঘদিন ধরেই তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতাল'কে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ছিল। হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার বেহাল দশা, রোগী কল্যাণ তহবিলের লক্ষাধিক টাকা ফেরত যাওয়া, গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ ও ভ্যাকসিনের পাচার, কর্মীদের মর্জি মাফিক উপস্থিতি, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যএমন অসংখ্য অভিযোগে কার্যত সরগরম ছিল হাসপাতাল চত্বর। অভিযোগের তীর বারবার গিয়েছে মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজা জমাতিয়ার দিকেই। 

সূত্রের খবর, হাসপাতালের রোগী উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা ফেরত যাওয়ার বিষয়টিও বিধায়িকার নজরে আসে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ ও ভ্যাকসিন  পাচার অভিযোগ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

      এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজা জমাতিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ।  জবাবদিহির মুখে পড়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কিন্তু তাতে অভিযোগের ভার কমেনি, বরং হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যার্থতা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ক্ষুব্ধ বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায় ঘটনাস্থল থেকেই স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং গোটা বিষয়টি অবগত করান। পাশাপাশি তিনি জানান, বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহার নজরেও আনা হবে।

       সংবাদমাধ্যমের সামনে অকপটে কল্যাণী সাহা রায় স্বীকার করেন, “তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে কার্যত নৈরাজ্য চলছে।হাসপাতালের এল.ডি.সি প্রশান্ত সিনহা, চিকিৎসক সমীর দেববর্মা সহ একাধিক কর্মীর খামখেয়ালি উপস্থিতি নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

  অ্যাম্বুলেন্স সংকট প্রসঙ্গে বিধায়িকা বলেন, অতীতে তিনি বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ব্যায় করে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেছিলেন। এছাড়াও আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের কাছে থাকার কথা। তারপরও যদি সংকট থেকে থাকে, তবে প্রয়োজনে পুনরায় বিধায়ক তহবিল কিংবা রাজ্য সরকারের মাধ্যমে নতুন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাবস্থা করা হবে।