img


কমলপুরের এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের বিস্ফোরক অভিযোগ!


 আইনেট  প্রতিনিধিঃ   কমলপুরে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে এখন তোলপাড় গোটা এলাকা।
একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে মিথ্যা মামলার নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জমি-জমা সংক্রান্ত মামলা, আইনি জটিলতা ও আদালতের প্রক্রিয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ পরবর্তীতে অনেকেই জানতে পারেন, যেসব মামলার কথা বলে অর্থ নেওয়া হয়েছে, তার বাস্তব অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, জাহিদ আলীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, জুনেদ আহমেদের কাছ থেকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, বিদ্যাবতী সিনহার কাছ থেকে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং নগেন্দ্র দেবনাথের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা।
ক্ষোভে ফেটে পড়া ভুক্তভোগীরা কমলপুর বার অ্যাসোসিয়েশনে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে একটি বিষয় নিয়ে—যদি অভিযোগকারীদের দাবি সত্য হয়, তাহলে আদালতে বিচার পাওয়ার আশায় আসা মানুষদের কাছ থেকে নেওয়া সেই বিপুল অঙ্কের অর্থ গেল কোথায়?
আর যদি আদৌ কোনো মামলা না থেকে থাকে, তাহলে সেই অর্থ আদায়ের ভিত্তিই বা কী?
অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেকেই নিজেদের সর্বস্ব বিক্রি করে, ধারদেনা করে কিংবা সঞ্চিত অর্থ ভেঙে টাকা দিয়েছেন। কেউ ন্যায়বিচারের আশায়, কেউ জমি রক্ষার আশায়, আবার কেউ আইনি জটিলতার ভয়ে। আজ তারা প্রশ্ন তুলছেন—তাদের বিশ্বাসের সুযোগ নেওয়া হয়েছে কি না।
ঘটনার পর কমলপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত আইনজীবীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেই বৈঠকে তিনি  লিখিতভাবে নিজের বক্তব্য দেবেন বলে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
এই ঘটনাকে ঘিরে এখন কমলপুরে নানা আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগকারীদের দাবি, শুধুমাত্র অর্থ ফেরত নয়, ঘটনার সম্পূর্ণ সত্য সামনে আসুক এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এখন নজর তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত সমস্ত তথ্য অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও দাখিলকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। অভিযোগগুলির সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ। অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ লিখিত প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।