
আইনেট প্রতিনিধিঃ দুর্যোগ মোকাবিলার নামে শুধু নামেই বাহাদুরি, কাজের বেলায় কার্যত ‘ঢাল-তরোয়ালহীন নিধিরাম সর্দার’! চাকমাঘাট মুসলিম বস্তি এলাকায় মাটি ধসে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার কাঠগড়ায় তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবিলা দল। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছেও তারা কার্যত নির্বিকার দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে ছিল, আর উদ্ধারকাজে প্রাণপণ লড়াই চালিয়েছে অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও TSR-এর জওয়ানরা।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সাত সকালে কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চাকমাঘাট মুসলিম বস্তি এলাকায়। জানা যায়, কুঞ্জমুড়া এলাকার ২০ বছর বয়সি জেমস জমাতিয়া, ৩০ বছর বয়সি আশা হরি জমাতিয়া এবং একই এলাকার ৩০ বছর বয়সি অমূল্য ধন জমাতিয়া একটি গাড়ি নিয়ে বাড়ির কাজের জন্য মাটি সংগ্রহ করতে সেখানে যান। মাটি কাটার সময় আচমকাই বিশাল মাটির স্তুপ ধসে পড়ে তিনজনের উপর।
ঘটনা চোখের সামনে ঘটতে দেখে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরাই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এলাকাবাসীর তৎপরতায় গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় গাড়িচালক অমূল্য ধন জমাতিয়া। তার পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে দ্রুত তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরও কেন সময়মতো পৌঁছাতে পারল না প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবিলা দল?
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অগ্নিনির্বাপক দপ্তর। কিন্তু মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবিলা দল পৌঁছাতে লেগে যায় আরও প্রায় এক ঘণ্টা। আর পৌঁছানোর পরও তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দলের সদস্যরা কার্যত হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং TSR দ্বাদশ বাহিনীর জওয়ানরা ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যান।
পরবর্তীতে জেমস জমাতিয়া ও আশা হরি জমাতিয়াকে উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর হাসপাতালে পৌঁছায় তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলা দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত DCM জিনিয়াস দেববর্মা হাসপাতালে এসে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বললেও সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে দেখা যায়নি তাকে। অভিযোগ, ক্যামেরা দেখেই কার্যত সরে পড়েন তিনি। ফলে দলের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি।