
আইনেট প্রতিনিধিঃ সোমবার গভীর রাত আনুমানিক ২টা নাগাদ ধর্মনগরের বিদ্যালয় পরিদর্শকের কার্যালয়ের গুদামে এই চুরির ঘটনাটি ঘটে। কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী রাজু বাসপার জানান, গভীর রাতে গুদামের দিক থেকে সন্দেহজনক শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে এগিয়ে যান। সেখানে তিনি হাতেনাতে ধরে ফেলেন ওই ব্যক্তিকে, যে গুদাম থেকে পাঠ্যপুস্তক বের করে বাউন্ডারি ওয়ালের পাশে জড়ো করছিল।
নৈশপ্রহরী রাজু বাসপার বলেন, "শব্দ শুনেই বুঝতে পারি কিছু একটা ঘটছে। কাছে গিয়ে দেখি এক ব্যক্তি বই চুরি করছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে জাপটে ধরি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খবর দিই।" পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকালে তাকে ধর্মনগর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে ধৃত মিঠুন দাস দাবি করে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সে সেখানে ঢুকে পড়েছিল এবং সে পূর্ববাজার এলাকায় বোতল সংগ্রহের কাজ করে। তবে পরবর্তীতে পুলিশের জেরার মুখে সে চুরির উদ্দেশ্যে গুদামে প্রবেশের কথা স্বীকার করে।
বিদ্যালয় পরিদর্শকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই গুদামে পাঠ্যপুস্তকের ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল। এদিনের ঘটনার পর তাঁদের দৃঢ় সন্দেহ, ধারাবাহিক চুরির কারণেই সরকারি এই বইগুলো খোয়া যাচ্ছিল। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি সরকারি দপ্তরে এভাবে চুরির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের মধ্যে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মনগর শহরে সরকারি অফিস, বসতবাড়ি এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে এসির পাইপ, বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরির হিড়িক পড়েছে। অনেক চুরির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। পুলিশ ধৃতকে থানায় নিয়ে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।