img


কুমারঘাট মহকুমায় ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বন্যা পরিস্থিতি।


আইনেট  প্রতিনিধিঃ     ত্রিপুরার কুমারঘাট মহকুমাজুড়ে দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। দূর্গতদের আশ্রয়ের জন্য প্রশাসনের তরফে খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির। বন্যার ফলে শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন দুই শতাধিক পরিবার। বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে প্রশাসন।ত্রিপুরায় কয়েকদিন ধরে প্রকৃতির রুদ্ররূপে একপ্রকার অচল জনজীবন।  প্রকৃতির রুদ্ররূপে কার্যত বিপর্যস্ত কুমারঘাট মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ফুলেফেঁপে উঠেছে  মহকুমার উপর দিয়ে বয়ে চলা মনু ও দেও নদী। নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বন্যার জল।  মহকুমার হালাইমুড়া, ইন্ডাস্ট্রি পাড়া, ইন্দিরা কলোনি, তারাপুর, তরণীনগর সহ একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যেই বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে বন্যার জল। মানুষের ড্রয়িং রুম থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে বন্যার জল। এই অবস্থায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বন্যা কবলিত লোকেরা।   ক্রমশ অবনতিশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কুমারঘাট মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে ১৭টি ত্রাণ শিবির। এসব শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ২৮৭ পরিবারের মোট ১৫০৯ জন বন্যা দুর্গত মানুষ। কুমারঘাট বালিকা বিদ্যালয়ের শিবিরে আশ্রয় নেওয়া গোপাল মালাকার নামে এক বন্যা কবলিত ব্যাক্তি জানান, বৃষ্টির জেরে বাড়িঘরে জল ঢুকে যাওয়ার ফলে শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাদেরকে। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে বেরোনোর রাস্তটি পর্যন্ত ডুবেগেছে তাদের। অবশেষে গলাসম জল ডিঙিয়ে শিবিরে পৌঁছতে হয়েছে তাদেরকে। বন্যার কারনে তাদের গ্রাম থেকে মোট কুড়িটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন শিবিরে। বর্তমানে প্রচন্ড বেগে বন্যার জল বেড়ে চলেছে বলে জানান ঐ ব্যক্তি।   এদিকে হালাইমুড়া এলাকার বাসিন্দা চম্পা দত্ত বলেন, বুধবার বিকেল থেকেই বাড়তে শুরু করেছে নদীর জল। নদীর আশপাশে থাকা বিভিন্ন বাড়িঘরে ঢুকে যাচ্ছে বন্যার জল। বন্যার জলে ভেসে যাচ্ছে অনেকের গৃহপালিত পশু। তিনি বলেন, এলাকায় মোট ৫০ থেকে ৬০ টি পরিবার রয়েছে। সবার বাড়িতেই ঢুকেগেছে বন্যার জল। একনাগাড়ে বৃষ্টির ফলে বেড়ে চলেছে বন্যার জল। ফলে জলে ডুবে যাচ্ছে যাতায়াতের রাস্তা পর্যন্ত।    এদিকে এলাকার বন্যা কবলিত সবিতা শীল বলেন, বন্যার ফলে জল ঢুকে গেছে এলাকার সবার ঘরেই। বন্যা আক্রান্তরা সবাই এখন আশ্রয় নিচ্ছেন ত্রাণ শিবিরে। বন্যার ফলে এলাকায় ক্ষয়ক্ষতিও ব্যাপকভাবে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার বক্তব্য, কয়েক বছর আগেও বন্যা হয়েছিল। কিন্তু এতো ক্ষয়ক্ষতি এর আগে হয়নি কখনো যা হচ্ছে এবছরের বন্যার শুরুতেই।