
আইনেট প্রতিনিধিঃ ২৫ লক্ষ টাকার বাজেটে ৫০তম বর্ষের সার্বজনীন দুর্গোৎসবের সূচনা, উলু-শঙ্খ-ঢাকের বোলে মুহুরি নদী থেকে গঙ্গা আনয়ন ।কাশফুলে শরতের হাওয়া এখনো দোলা লাগেনি। আকাশে পেঁজা তুলোর মেঘের আনাগোনাও শুরু হয়নি। তবুও চিরাচরিত প্রথার সিঁড়ি বেয়ে রথের দিনেই বিলোনিয়ার বুকে বেজে উঠল আগমনীর আগাম সুর। বিলোনিয়া মহকুমার বনেদি দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম বনকর ওরিয়েন্টাল ক্লাব এবার পা রাখল সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে। আর সেই মাইলফলকের যাত্রা শুরু হল সাড়ম্বরে খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে।
রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে ক্লাব প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠল উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি আর ঢাক-ঢোলের বাদ্যিতে। পুরোহিতের বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের সাথে সাথে মুহুরি নদী থেকে গঙ্গা আনয়ন করে সূচনা হল মণ্ডপের প্রথম খুঁটির পুজো। শাস্ত্রমতে, খুঁটিপুজো মানেই মর্ত্যলোকে দেবীর আগমনের আনুষ্ঠানিক বার্তা। রথের দিন বা তার কাছাকাছি সময়ে মণ্ডপ তৈরির আগে খুঁটি পোতার এই রীতিই দুর্গোৎসবের প্রথম সোপান। দেবীর মৃন্ময়ী রূপকে মর্ত্যে নেমে আসার জন্য এ যেন এক প্রাণের আকুতি। ওরিয়েন্টাল ক্লাবের এবারের
দুর্গাপুজা কমিটির সম্পাদক বিজয় বিশ্বাস জানালেন, এবারের পঞ্চাশতম বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে বাজেট ধরা হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা। পুজোকে ঘিরে হাতে নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচি। খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুজা কমিটির যুগ্ম সভাপতি গোপী দেব রায় ও স্বপন নাথ সহ ক্লাবের সম্পাদক অলক বনিক ও সভাপতি নেপাল সেন । পাঁচ দশক ধরে বনকরের এই পুজো শুধু উৎসব নয়, হয়ে উঠেছে আবেগের মহীরুহ। রথের চাকা ঘুরতেই যে খুঁটি পোঁতা হল, সেই খুঁটিই আগামী দিনে ধরে রাখবে পঞ্চাশ বছরের ঐতিহ্য আর লক্ষ মানুষের বিশ্বাসের ভার। শরতের অপেক্ষা এখন শুধু সময়ের। তার আগেই ওরিয়েন্টাল ক্লাবের খুঁটিপুজো জানিয়ে দিল, মা আসছেন।