
আইনেট প্রতিনিধিঃ পানীয় জলের দাবিতে এবার ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটল ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৩৬ মাইল এলাকায়। দীর্ঘ প্রায় সাত দিন ধরে পানীয় জল না পাওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন এলাকার ক্ষুব্ধ জনগণ। আর এই অবরোধকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যেই কার্যত অচল হয়ে পড়ে ব্যস্ততম জাতীয় সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা। গত প্রায় সাত দিন ধরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি ডিডব্লিউএস দপ্তরের নজরে আনা হলেও সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে দপ্তরের তরফে একের পর এক তালবাহানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত পানীয় জলের দাবিতে বাধ্য হয়েই জাতীয় সড়ক অবরোধের পথে নামেন এলাকাবাসী।
অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কের দুই দিকেই আটকে পড়ে অসংখ্য যানবাহন। এমনকি অবরোধের কবলে পড়েন রাজ্য সরকারের মন্ত্রী কিশোর বর্মনও। দীর্ঘক্ষণ অবরোধস্থলে দাঁড়িয়ে থাকার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে গাড়ির গতিপথ পরিবর্তন করে অন্য রাস্তা দিয়ে চলে যেতে হয় মন্ত্রীকে।
ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মুঙ্গিয়াকামী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা শুরু হয়।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলার পর অবশেষে অবরোধস্থলে পৌঁছান তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের ডিসিএম সন্দীপ দেববর্মা এবং মুঙ্গিয়াকামী ডিডব্লিউএস দপ্তরের এসডিইউ বিজয় দেববর্মা। তাঁরা অবরোধকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেন এবং দ্রুত পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।
তবে প্রশাসনের আশ্বাসে এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। শেষ খবর লেখা পর্যন্ত অবরোধকারীরা জাতীয় সড়ক থেকে সরে দাঁড়াননি এবং অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ ঘণ্টার এই অবরোধের ফলে আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের উভয় দিকেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার দু’পাশে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের গাড়িচালকরা। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষজনও কার্যত আটকে পড়েছেন রাস্তায়।