img


ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের ২৭ জন নিরাপত্তাকর্মী বুধবার অনির্দিষ্টকালের ধরনায় বসেন


আইনেট  প্রতিনিধিঃ   দীর্ঘ ১১ মাস ধরে বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের ২৭ জন নিরাপত্তাকর্মী বুধবার অনির্দিষ্টকালের ধরনায় বসেন। হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডা. ভাস্কর দাসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে সরব হন তাঁরা।নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এন বি এস কোম্পানির মাধ্যমে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু প্রায় ১১ মাস ধরে তাঁদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।এক নিরাপত্তাকর্মীর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকের পরিবারে ছোট সন্তান রয়েছে। নিয়মিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বেতন আটকে থাকায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ।ধরনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মী সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত বকেয়া বেতন মেটানোর কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।এদিকে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের এত দীর্ঘ সময় বেতন বকেয়া থাকার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কর্মীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এতদিনেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা স্পষ্ট নয়।     নিরাপত্তাকর্মীদের অবস্থানের কারণে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু রোগী ও তাঁদের পরিজন ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাকর্মীরা কর্মবিরতিতে গেলে হাসপাতালের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিকেল সুপার ডা. ভাস্কর দাস আন্দোলনরত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে এবং কোম্পানির মালিককে ধর্মনগরে এসে কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।মেডিকেল সুপারের আশ্বাসের পর আপাতত ধরনা প্রত্যাহার করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তবে তাঁদের দাবি, শুধু আশ্বাসে নয়, দ্রুত বাস্তবে বকেয়া ১১ মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে।এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই বেতন বকেয়ার সমস্যার সমাধান কত দ্রুত হয়।