
আইনেট প্রতিনিধিঃ দুই মাস যাবৎ মা কে কাছে না পেয়ে পাঁচ বছরের ছেলে সন্তান সারা দিন বারবার কান্নায় মা- মা শব্দ করে বেড়াচ্ছেন। কখন সেই মা আসবে তার কাছে।বিকলাঙ্গ স্বামী এবং পাঁচ বছরের ছেলে সন্তানকে ফেলে পালিয়ে গেল গৃহবধূ। বর্তমানে সেই স্বামী তার স্ত্রীর আশায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। ঘটনা কমলাসাগর বিধানসভার দীনদয়াল চৌমুহনী পালপাড়া এলাকায়। ঘটনার বিবরণে জানা যায় গত জুলাই মাসের ৪ তারিখ গৃহবধূ শিখা দেবনাথ তার স্বামীর কাছে মেয়ের বাড়ি বিশ্রামগঞ্জ ছেচড়িমাইল এলাকায় যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। তারপর থেকেই নিখোঁজ। স্বামী রাজীব দেবনাথ গত প্রায় ছয় বছর যাবত বিকলাঙ্গ হয়ে এক প্রকার শয্যাশায়ী। ঘর থেকে বের হতে পারছে না। কোন কিছু করতে হলে তার পাঁচ বছরের ছেলে সন্তানের সাহায্য নিতে হচ্ছে। হুইলচেয়ার ঠেলে ঠেলে বাবাকে এদিক ওদিক নিচ্ছে পাঁচ বছরের সন্তান। এমনকি খাওয়া-দাওয়া পুরোপুরি বন্ধ। পাশের বাড়ির লোকজন কিংবা বৃদ্ধ মা কিছু খাবার দিলেই তার পাঁচ বছরের ছেলে সন্তানকে নিয়ে কোনরকম বেঁচে আছে। এদিকে রাজীব দেবনাথ জানান তার মেয়ের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারে সেখানে যায়নি। পরবর্তী সময়ে তার শ্বশুরবাড়ি ভবানীপুর মনুয়ারটিলা এলাকার যোগাযোগ করলে তাদের বাড়িতেও যায়নি বলে সরাসরি জানিয়ে দেয়। রাজীব দেবনাথ বলেন আমার একমাত্র ছেলে সন্তানের আর কেউ নেই আমি এবং আমার স্ত্রী ছাড়া। বর্তমানে স্ত্রীকে হারিয়ে এক প্রকার নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। রাজীব দেবনাথ আর বলেন প্রায় সময় ফোন করলে সারাক্ষণ মোবাইল ব্যস্ত দেখাচ্ছে এমনকি তার মোবাইল নম্বর বিজি করে রেখেছে। শেষ পর্যন্ত রাজীব দেবনাথ আমতলী থানার দারস্থ হয় তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য তবে। আরো বলেন প্রায় সময়েই তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন আসতো বিভিন্ন জায়গা থেকে। এই নিয়ে সংসার অনেক ঝামেলা ও হয়েছে। হয়তো কারোর সাথে সম্পর্ক রয়েছে।যার পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ বছরের ছেলে সন্তান এবং বিকলাঙ্গ স্বামীকে ফেলে সেই গৃহবধূ পালিয়ে গেল। উল্লেখ্য গত ১৮ বছর পূর্বে কমলাসাগর বিধানসভার গকুলনগর দিনদয়াল চৌমুহনী পালপাড়া এলাকার বলয় দেবনাথের ছেলে রাজীব দেবনাথের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় ভবানীপুর মনুয়ারটিলা এলাকার হাসিরাম দেবনাথের কন্যা শিখা দেবনাথের। তাদের বর্তমানে একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে এবং সে কন্যা সন্তানের বিবাহ হয়েছে তার সন্তান ও রয়েছে। এমন সময় বিকলাঙ্গ স্বামী এবং পাঁচ বছরের ছেলে সন্তানকে ফেলে সে গৃহবধূ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারছে না।