
আইনেট প্রতিনিধিঃ পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরায় প্রায় ১০টি লাওয়ারিশ হাতির করুণ দশা ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। অভিযোগ, পর্যাপ্ত খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ছে হাতিগুলি। এমনকি ইতিমধ্যেই তিনটি হাতির মৃত্যুও ঘটেছে বলে দাবি পশুপ্রেমীদের। অথচ হাতিগুলির দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও কার্যত তারা ত্রিপুরার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে লাওয়ারিশের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। জানা গেছে, হাতিগুলির মালিকরা খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে আগেও হাতিগুলি বনতারা বন্যপ্রাণী আশ্রয় কেন্দ্রের কাছে দান করেছিলেন। এর আগে ত্রিপুরা থেকে ২৮টি হাতিকে বনতারা তাদের হেফাজতে নিয়ে গিয়ে গুজরাটের জামনগরে নিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে দান করা প্রায় ১০টি হাতিকে বনতারা গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একইভাবে যখন অন্যান্য রাজ্য থেকে হাতিকে উদ্ধার করে বনতারা নিয়ে যাচ্ছে, তখন ত্রিপুরার এই অসহায় হাতিগুলির ক্ষেত্রে কেন এমন অনীহা? উল্লেখ্য, বনতারা অনন্ত আম্বানির উদ্যোগে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। গুজরাটের জামনগরে এর রয়েছে হাতিদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিকাঠামো। সম্প্রতি অসমের শিবসাগর থেকেও একটি হাতিকে বিমানযোগে বনতারা নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। আর সেখানেই ত্রিপুরার হাতিগুলিকে ঘিরে আরও জোরালো হচ্ছে প্রশ্ন। এদিকে উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমায় হাতিগুলির করুণ অবস্থা দেখে এগিয়ে এসেছেন পশুপ্রেমীরা। জুবেল হোসেন, আব্দুল বসর-সহ একাধিক পশুপ্রেমী কলা, আপেল, তরমুজ, বিস্কুট, গুড়-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাতিগুলিকে খাওয়াচ্ছেন। পাশাপাশি আহত হাতিগুলির চিকিৎসার জন্য ধর্মনগর জেলা পশু হাসপাতালের চিকিৎসককেও নিয়ে আসা হয়েছে। জেলা পশু হাসপাতালের চিকিৎসক বেলি দেববর্মা জানান, দুটি হাতির শরীরে একাধিক ক্ষত রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য হাতির শরীরেও ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। জঙ্গলে চলাচলের সময় গাছপালা ও বাঁশের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হাতিগুলি আহত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত তাদের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তবে পশুপ্রেমীদের অভিযোগ, এত বড় বিপদের মধ্যেও পশু প্রেমিরা খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও বনতারা কিংবা ত্রিপুরা বন দপ্তরের পক্ষ থেকে হাতিগুলির যথাযথ খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে না। জুবেল হোসেন ও আব্দুল বসরের প্রশ্ন, আগে যদি ত্রিপুরা থেকে ২৮টি হাতিকে বনতারা নিজেদের হেফাজতে নিতে পারে, তাহলে বর্তমানে অসুস্থ ও অসহায় প্রায় ১০টি হাতিকে নিতে এত অনীহা কেন?