
আইনেট প্রতিনিধিঃ বাঙ্গালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম প্রধান উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই উৎসব আজ বাঙ্গালির আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই দুর্গাপূজার আগমন শুধু পঞ্জিকার পাতায় নয়, প্রকৃতির রূপ বদলের মধ্য দিয়েও অনুভব করেন মানুষ। এ প্রসঙ্গে তেলিয়ামুড়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ রুমা ভট্টাচার্য্য বলেন, “কাশফুল শুধুমাত্র একটি ফুল নয়, এটি আনন্দের দূত, একটি বার্তাবাহক। কাশফুল মায়ের আগমনের বার্তা নিয়ে আসে।”তিনি আরও বলেন, “যখনই আমরা কাশফুল দেখতে পাই, তখনই আমাদের মন আনন্দে মেতে ওঠে—মনে হয়, আসছে আমাদের ঘরের মেয়ে উমা। কাশফুল যেন তার শুভ্র পাখা মেলে বলে, মাগো তুমি এসো।” প্রকৃতির এই সাদা-শুভ্র আবরণ যেন দেবী দুর্গার আগমনের আগে পৃথিবীর নিজস্ব এক সাজসজ্জা। কাশফুলের দোলায় দোল খায় শৈশবের স্মৃতি, শিউলির সুবাসে ফিরে আসে পুজোর ভোর, আর ঢাকের কাল্পনিক শব্দে মন অপেক্ষা করতে শুরু করে সেই কাঙ্ক্ষিত চারটি দিনের জন্য। শরৎ তাই শুধুই একটি ঋতু নয়—শরৎ মানেই বাঙালির আবেগ, নস্টালজিয়া আর উমার ঘরে ফেরার প্রতীক্ষা।