
আইনেট প্রতিনিধিঃ মাঝে আর মাত্র দিন পনেরো। অর্থাৎ হাতে গোনা সপ্তাহ দুয়েক। এর পরেই শারদোৎসব।এবার কিছুটা পিছিয়ে হচ্ছে উৎসব।প্রতীক্ষার প্রহর গোনার পালা শুরু হয়ে গেছে। দিকে দিকে চলছে শারদ মণ্ডপ সজ্জার প্রস্তুতি।সাধ আর সাধ্যের টানাপোড়েনের মাঝেও চলছে ব্যস্ততা।অভাব অনটন নিত্যসঙ্গী।তবু শেষ নেই উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তুলতে চারদিক।তবু চলছে শারদ আনন্দে মেতে উঠার আকুল আকুতি।বাজারে অগ্নিমূল্য পণ্য সামগ্রীর। শারদ উদ্যোক্তারা মণ্ডপ সাজিয়ে তুলতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দস্তুরমতো। শারদোৎসবের আয়োজকেরা। খোয়াই মহকুমার রামচন্দ্রঘাটে টি এস আর ষষ্ঠ ব্যাটেলিয়নের সদর দপ্তরে প্রতিবারেই বিচিত্র স্বাদের মণ্ডপসজ্জায় দর্শনার্থীদের কাছে টানেন উদ্যোক্তারা।প্রতিবছরেই কিছু না কিছু নতুনত্ব থাকে এদের মণ্ডপ পরিকল্পনায়।বাহারী মণ্ডপের সামনে সুবিস্তৃত পরিসরে উপচে পড়ে মানুষের ভীড়।সারা রাত জনভীড়ে ভাসে রামচন্দ্রঘাটে টি এস আর ষষ্ঠ ব্যাটেলিয়নের সদর দপ্তরের আলো ঝলমল অপূর্ব দৃষ্টিনন্দন শারদ প্রাঙ্গন।মনোমুগ্ধকর ও নয়নাভিরাম শারদ মণ্ডপের সামনের ভীড় যেন জনপ্লাবন।সেই ভীড় যেন আর কমতেই চায় না সারা রাতেও।রাত মণ্ডপ আর প্রতিমা দর্শনে রাত পেরিয়ে ফুটে উঠে ভোরের আলো।তবু রামচন্দ্রঘাটে টি এস আর ষষ্ঠ ব্যাটেলিয়নের সদর দপ্তরের কৃষ্টি, রুচি আর উন্নত পরিশীলিত ভাবনার শারদ মণ্ডপ ভাসে জনস্রোতে।
এবারেও তাদের শারদ মণ্ডপের পরিকল্পনায় ব্যাতিক্রমী রুচি আর কৃষ্টি সংস্কৃতির ছোঁয়া।মন মনন আর ঐতিহ্যের মিশেলে গড়ে উঠছে তাদের এবারের শারদ মণ্ডপ। দ্বাদশ জ্যুতি লিঙ্গ, তাজমহল, মহীশূরের রাজপ্রাসাদ, দিল্লীর সংসদ ভবন ও লালকেল্লার পর রামচন্দ্রঘাটে টি এস আর ষষ্ঠ ব্যাটেলিয়নের সদর দপ্তরে শারদ মণ্ডপ গড়ে তোলা হচ্ছে ব্যাঙ্গালোরের আর্ট অব লিভিংগ শ্রী শ্রী রবি শংকরের ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের অনুকরণে।দুই মাস ধরে ব্যাটেলিয়নের বিভিন্ন স্তরের জওয়ানদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর আন্তরিকতায় সবুজাভ প্রকৃতির কোলে প্রশস্ত ময়দানের পূর্ব প্রান্তে ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে ঐতিহ্য আর অহঙ্কারের গর্বদ্যোত প্রতীক ব্যাঙ্গালোরে শ্রী শ্রী রবি শংকরের মন্দির। কম্যান্ডেন্টেন্ট রাজীব সেনগুপ্ত জানান,ব্যাটেলিয়নের জওয়ানেরাই এবারেও নিজেরাই শিল্পী।অপরূপ সূক্ষ্ম কারুকার্য্যের মধ্য দিয়ে জওয়ানেরাই নিজেদের মেধায় অভূতপূর্ব শিল্প সুষমায় কাঠ কাপড় আর থার্মোকলের মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছেন। রাইফেলম্যান দীপক সূত্রধর এবারেও মূল শিল্পী।এখানে সবাই তারা শিল্পী। ১১০ ফুট দৈর্ঘ্যের আর ৬৫ ফুট উঁচু দর্শনীয় শারদ মণ্ডপ মাথা তুলছে ব্যাটেলিয়নের জওয়ানদের সুদক্ষ হাতের পরশে। তীব্র দাবদাহ, খরতাপ আর কাঠফাটা রৌদ্রের তপ্তদিনে একমনে কাজ করে চলেছেন টি এস আর ষষ্ঠ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানেরা।ফুটিয়ে তুলছেন সুউচ্চ শ্রী শ্রী রবি শংকরের মন্দির।