
আইনেট প্রতিনিধিঃ শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই কাশফুল, শিউলি ফুলের সুবাস, আলোর রোশনাই আর ঢাকের আওয়াজে চারদিকে উৎসবের আমেজ। মায়ের আগমনকে ঘিরে বাঙালির আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ঢাক ও ঢাকের বাদ্যি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে উৎসব উদযাপনের ধরন। আর সেই পরিবর্তনের মাঝেও পূর্বপুরুষের শিক্ষা ও ঐতিহ্যকে বুকে আগলে রেখে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ঢাক বাজিয়ে চলেছেন তেলিয়ামুড়ার ধর্মনগর সুকান্ত পল্লী কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বলরাম ঋষি দাস।
আজও তাঁর ঢাকের আওয়াজে খুঁজে পাওয়া যায় বাংলার চিরাচরিত দুর্গোৎসবের সেই পরিচিত সুর।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে। বদলেছে মানুষের জীবনযাত্রা, উৎসব উদযাপনের ধরন এবং বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন সাউন্ড সিস্টেম, ডিজিটাল মিউজিক ও উন্নতমানের বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ঐতিহ্যবাহী ঢাক ও ঢোলের ব্যবহার আগের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আধুনিকতার এই পরিবর্তনের মধ্যেও ঢাকের গুরুত্ব ও আবেগ আজও মানুষের মনে অটুট। বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় ঢাকের আওয়াজ ছাড়া যেন উৎসবের আনন্দ অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ধুনুচি নাচ, সন্ধিপূজা কিংবা মায়ের বোধন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঢাকের ছন্দ উৎসবের পরিবেশকে অন্য মাত্রা দেয়।
বলরাম ঋষি দাসের মতো শিল্পীরা বছরের পর বছর ধরে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে এই লোক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাঁদের হাতের ছন্দে শুধু বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজই শোনা যায় না, বরং ফুটে ওঠে বাঙালির সংস্কৃতি, পারিবারিক শিক্ষা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহন করে নিয়ে চলা এক ঐতিহ্যের গল্প।