img


ত্রিকোণ প্রেম জীবন কাড়ল এক কলেজ পড়ুয়ার, সেকেরকোটের পাণ্ডবপুরে শোকের ছায়া


আইনেট  প্রতিনিধিঃ     লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট বা প্রথম দর্শনেই প্রেম -তা কখনোই ভোলার নয়। আর পরিণত হওয়ার মুখে এই ভালোবাসায় যখন তৃতীয় পক্ষের অবাঞ্চিত উপস্থিতি ঘটে , তখন তা হয়ে ওঠে আরো বিষময়। কত যে নিষ্পাপ জীবন এই অব্যক্ত জ্বালায় ধুয়ে মুছে গেছে তার হিসেব নেই। এমনই একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটলো সম্প্রতি আমতলী থানাধীন সেকেরকোটেরর পান্ডব পুর এলাকায়। জানা গেছে, এই এলাকার পেশায় গাড়িচালক তাপস দাসের বড় ছেলে তুষার দাস স্কুল জীবন থেকেই সেকেরকোট পূর্বপাড়া অর্থাৎ দাসপাড়ার কৃষক দুলাল দাসের মেয়ে প্রিয়াঙ্কা দাসের প্রেমে পড়ে। কথায় আছে, প্রেম এবং যুদ্ধ কোন বাধা মানে না। দুই পরিবার থেকেই দুজনকে পৃথক পথে পরিচালনার একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু সফল হওয়া যায়নি। এরইমধ্যে প্রিয়াঙ্কা উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়ে টি আই টি তে ভর্তি হয়। তুষার ভর্তি হয় রামঠাকুর কলেজে। তারপরেও দু'জনের মধ্যে কথাবার্তা হতো। গ্রামের অনেকেই বিষয়টি জানতেন। এরই মধ্যে মহাবীর দাস নামে এন আই টির এক পড়ুয়ার আগমন। শুরু হয় ত্রিকোণ প্রেমের বিস্তার। প্রিয়াঙ্কা ঝুঁকে পড়ে এনআইটি পড়ুয়া মহাবীর দাসের দিকে । অভিযোগ, অতি সম্প্রতি প্রিয়াঙ্কা, তার নতুন বন্ধু মহাবীর ,তার আরো এক বান্ধবী এবং বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড তুষারকে হাওড়া রিভার ফ্রন্ট এর পার্কে ডেকে নেয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা প্রসঙ্গে তারা তুষার দাসকে মরে যেতে বলে। বিষয়টি তুষারের মনে গভীর ভাবে দাগ কাটে। তুষার বাড়িতে এসে কাউকে বিষয়টি না জানিয়ে কান্নাকাটিও করে। গত রবিবার বিকেলে তুষার প্রিয়াঙ্কার বাড়ির সামনের মাঠে যায়। সেখানে সে ভিডিও করে বিষপান করে। তার বন্ধুরা সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে হাপানিয়ার টিএমসিতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তুষারকে আইএলএস এ নিয়ে যাওয়া হয়। ৭ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইএলএস হাসপাতালে মৃত্যু হয় তুষারের। মৃত্যুর আগে তুষার তার মামা স্বপন দাসকে সব ঘটনা খুলে বলে। গোটা ঘটনা নিয়ে প্রিয়াঙ্কা, তার নতুন বন্ধু ,বান্ধবী এবং বান্ধবীর বন্ধুকে দায়ী করেন তিনি। স্বপন বাবুর অভিযোগ, এই চারজন এমন আঘাত না দিলে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটাতো না তুষার।