
আইনেট প্রতিনিধিঃ কৃষকদের সম্মান জানিয়ে তাঁদের হাতেই সরকারি কার্যালয়ের উদ্বোধন করালেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ। প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে দুই কৃষককে দিয়ে ফিতা কাটানোর মধ্য দিয়ে খোয়াইয়ে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের অধীন দুটি নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। মোট ৩৮৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই দুই কার্যালয়ের ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী।রবিবার দুপুর ১২টায় খোয়াই সদর শহরের প্রাণকেন্দ্র অফিসটিলায় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায়, বিশিষ্ট সমাজসেবী সমীর কুমার দাস, কৃষি বিভাগের অধিকর্তা ফণীভূষণ জামাতিয়া-সহ কৃষি দপ্তরের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা।অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দুই কৃষককে দিয়ে কার্যালয়ের ফিতা কাটানো। কৃষকদের সম্মান জানাতে এবং কৃষি ব্যবস্থায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। কৃষকরা দেশের অন্নদাতা। তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের উপর নির্ভর করেই খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও গ্রামীণ অর্থনীতি এগিয়ে চলে। সেই কৃষকদের হাতেই সরকারি কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সূচনা হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ রাজ্যের কৃষি ক্ষেত্রের অগ্রগতি ও কৃষকদের আয় বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বর্তমান সরকারের আমলে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হয়েছে এবং কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।মন্ত্রী জানান, কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যে চার কোটি টাকা ব্যয়ে কৃষি মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। এই মার্কেটের মাধ্যমে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন। এর ফলে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা আরও সুসংগঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।খোয়াইয়ে ৩৮৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন কার্যালয় দুটি কৃষি দপ্তরের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা এবং কৃষকদের পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।