
আইনেট প্রতিনিধিঃ পরিশ্রমের ঘামে গড়া একটি জীবন, একটি সাজানো স্বপ্নকে ছাইয়ে পরিণত করতে কতক্ষণ সময় লাগে? উত্তরটা খুব বেশি নয়—মাত্র এক পলক, এক লকলকে আগুনের গ্রাস! সাব্রুম মহকুমার ইন্দিরানগর গ্রামের পরিশ্রমী মানুষ বিশ্বজিৎ মজুমদারের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। কৃষিকে ভালোবেসে, বুকভরা আশা নিয়ে যিনি গড়ে তুলেছিলেন তাঁর জীবিকার অবলম্বন—ব্রয়লার মুরগির খামারটি, তা আজ কেবলই পোড়া টিন আর ধূসর ছাইয়ের এক বিশাল স্তূপ। মাত্র ৩-৪ দিন আগে আশেপাশের এলাকায় আরও একটি খামার রহস্যজনকভাবে পুড়ে যায় , যা এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন ছুড়ে দেয় আমাদের বিবেকহীন সমাজের দিকে ।
গভীর রাতের নিঝুম অন্ধকারে সাড়ে তিনটার দিকে যখন ইন্দিরানগরের মাটি ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই দুর্বৃত্তদের হীন চক্রান্ত কিংবা ছায়াবৃত্তের লেলিহান শিখা কেড়ে নিয়েছে বিশ্বজিৎ বাবুর মাথার ওপরের ছাদ। চোখের সামনে তিলে তিলে পোড়ানো হয়েছে ১২ দিন বয়সের ১০০০টি অবলা প্রাণ, ছাই হয়ে গেছে মুরগির খাদ্য ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধপত্র। সর্বসাকুল্যে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকার এই আর্থিক ক্ষতি কেবল কয়েকটি টাকার অঙ্ক নয়; এটি একজন খেটে খাওয়া মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সুপরিকল্পিত অপরাধ।
এই পৈশাচিক ধ্বংসলীলার বিরুদ্ধে আজ সময় এসেছে তীব্র প্রতিবাদ ও কড়া প্রতিরোধ গড়ে তোলার। বারবার একই কায়দায় খামারগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার এই ধারাবাহিকতা কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি কোনো অন্ধকার চক্রের সুপ্ত ষড়যন্ত্র? দায়ভার কার? আর কত প্রান্তিক কৃষকের বুক চিরে রক্ত ঝরবে? প্রশ্ন জনমনে।