img


দীপাবলিকে কেন্দ্র করে ফটিকরায়ের পাল বাজারে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে এখন মাটির প্রদীপ তৈরিতে ব্যস্ততা চরমে।


আইনেট প্রতিনিধিঃ     দীপাবলিকে কেন্দ্র করে ফটিকরায়ের পাল বাজারে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে এখন মাটির প্রদীপ তৈরিতে ব্যস্ততা চরমে। দিন রাত এক করে চলছে প্রদীপ তৈরির কাজ। তবে আগের থেকে প্রদীপের কদর অনেকটাই কমেছে এবং উপযুক্ত দামও মিলছেনা বলে অভিমত মৃৎশিল্পীদের।

সামনেই আলোর উৎসব দীপাবলি। আর দীপাবলি মানেই মাটির প্রদীপের চিরাচরিত ঐতিহ্য। অথচ আধুনিক আলোকসজ্জার ভিড়ে ক্রমশ ফিকে হচ্ছে মাটির প্রদীপের কদর। রকমারি বৈদ্যুতিন আলো আর বাহারি মোমবাতির দাপটে কমেছে এর চাহিদা। তবুও ঐতিহ্যের টানে দীপাবলি এলেই গ্রামাঞ্চলে আজও কিছুটা চাহিদা রয়েছে মাটির প্রদীপের। আর সেই চাহিদাকে ঘিরেই ঊনকোটি জেলার ফটিকরায়ের পালবাজারে এখন চরম ব্যস্ততা মৃৎশিল্পীদের। কাঁচা মাটিকে নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রদীপের রূপ দিতে দিনরাত এক করছেন তাঁরা।

এলাকার মৃৎশিল্পী স্বপন রুদ্রপাল ও পবিত্র রুদ্রপালদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। লক্ষ্মীপুজোর পর থেকেই বিভিন্ন কারখানায় জোরকদমে শুরু হয়েছে দীপাবলির প্রদীপ তৈরির কাজ। শুধু শিল্পীরাই নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও এখন সমান ব্যস্ততা। কেউ তৈরি হওয়া কাঁচা প্রদীপ রোদে শুকিয়ে ঘরে তুলছেন, আবার কেউ হাত লাগাচ্ছেন সেগুলি পোড়ানোর কাজে।

এলাকার মৃৎশিল্পী স্বপন রুদ্রপাল জানান, এবছর প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মাটির প্রদীপ তৈরি করেছেন তিনি। নিজ হাতেই প্রতিদিন তৈরি করছেন চার থেকে পাঁচশো প্রদীপ। বাবার কাছ থেকেই এই পেশায় হাতেখড়ি তার। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মৃৎশিল্পই তাঁর জীবিকার মূল অবলম্বন। তবে আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে প্রদীপের চাহিদা। আধুনিক বাজারে বৈদ্যুতিন আলোর দাপট, মাটির সামগ্রী তৈরির কাজ শিখতে নতুন প্রজন্মের অনীহা এবং উৎপাদিত সামগ্রীর উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ার আক্ষেপের কথাও উঠে এলো তার বক্তব্যে‌। যদিও দূরদূরান্ত থেকে এখনও বহু মানুষ প্রদীপ কিনতে আসেন বলে জানান তিনি।