
আইনেট প্রতিনিধিঃ নিজের বাড়ির হাঁস-মুরগি বিক্রি করে জোগাড় করেছিলেন কলেজের সেমিস্টার ফি। আগরতলায় আসার পথে সেই টাকা হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ছাত্রী। তাঁর অসহায়তার কথা জানতে পেরে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডের শ্রমিক ও মালিকপক্ষ।
দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথে এক মর্মস্পর্শী ঘটনার সাক্ষী থাকল আগরতলা। নিজের বাড়ির হাঁস-মুরগি বিক্রি করে কলেজের সেমিস্টার ফি জমা দেওয়ার জন্য প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ টাকা জোগাড় করেছিলেন অমরপুরের দরিদ্র পরিবারের ছাত্রী মিনা জমাতিয়া। কিন্তু আগরতলায় আসার পথেই হারিয়ে যায় তাঁর ব্যাগে রাখা সমস্ত টাকা। ফলে কলেজের ফি জমা দেওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি।
জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের কাজী নজরুল ইসলাম কলেজের সেমিস্টার ফি জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগরতলার নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডে আসছিলেন মিনা জমাতিয়া। তাঁর কাছে মোট ১৫ হাজার ৮০০ টাকা ছিল। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা কলেজের সেমিস্টার ফি বাবদ রাখা হয়েছিল। আগরতলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাসের কন্ডাক্টর ভাড়া চাইলে তিনি ব্যাগ খুলে ভাড়া দেন। কিন্তু নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে ব্যাগ খুলে দেখতে পান, টাকার ব্যাগটি আর নেই।কষ্ট করে জমানো টাকা হারিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন মিনা। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কারণ, এই টাকা জোগাড় করতে পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে নিজের বাড়ির হাঁস-মুরগি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল তাঁকে। কলেজের সেমিস্টার ফি কীভাবে জমা দেবেন, সেই চিন্তায় ভেঙে পড়েন ছাত্রী।
পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে মিনা নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডের শ্রমিক ও মালিকপক্ষের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর আর্থিক অসহায়তা এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্নের কথা শুনে এগিয়ে আসেন বাসস্ট্যান্ডের শ্রমিক ও মালিকপক্ষ। নিজেদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে মিনার হাতে তুলে দেন কলেজের সেমিস্টার ফি-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের টাকা।
বাস শ্রমিক ও মালিকপক্ষের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখলেন মিনা জমাতিয়া। তাঁদের এই সহযোগিতা শুধু একজন ছাত্রীর আর্থিক সংকটই দূর করল না, বরং তাঁর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথও সুগম করল।