
আইনেট প্রতিনিধিঃ শ্যামা বরনে বিশেষ আয়োজন ত্রিপুরার কুমারঘাটের ইয়ংস্টার ক্লাবে। জোর কদমে চলছে মন্ডপ শয্যা থেকে আলোকসজ্জার কাজ। উমার বিদায়ের পর এবার শ্যামা মায়ের আবাহন। আর শ্যামা পূজো মানেই আলোর উৎসব অর্থাৎ দীপাবলি। তাই আলোর উৎসব দীপাবলিকে বরণ করে নিতে দিকে দিকে চলছে প্রস্তুতি। এরই মধ্যে কুমারঘাট শহরে কালীপুজোয় দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে বিশেষ প্রয়াস ইয়ংস্টার ক্লাবের। এবছর ৩১তম বর্ষে পদার্পণ করেছে তাদের পুজো। শ্রীকৃষ্ণের গোবর্ধন পর্বতের আদলে তৈরি মণ্ডপ এবারে মূল আকর্ষণ ক্লাবের। এবারে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেতের শিল্পকর্মের সঙ্গে গোবর্ধন পর্বতের রূপকে এক সুতোয় বাঁধার প্রয়াস নিয়েছেন আয়োজকরা। মণ্ডপ নির্মাণে হাত লাগিয়েছেন স্থানীয় শিল্পীরা। থাকছে চোখধাঁধানো আলোকসজ্জাও। এবারের পুজোর বাজেট প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা। পূজোর দিনে দর্শনার্থীদের জন্য প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিও ইচ্ছে বলে জানালেন পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সুদীপ দেব। টেলিভিশনের পর্দায় গোবর্ধন পর্বতের দৃশ্য দেখেই মণ্ডপশিল্পী নিপেন্দ্র নাথের ভাবনা শুরু এই মণ্ডপ তৈরির। আর সেই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা শিল্পীর। কাপড়, খড়, মাটি ও বাঁশসহ বিভিন্ন উপকরণে গড়ে উঠছে গোবর্ধন পর্বতের আদলে এই মণ্ডপ। পুজোর দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কাজের গতি। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে চলেছেন নিরলসভাবে। লক্ষ্মীপুজোর পরদিন থেকেই শুরু হয়েছে এই নির্মাণযজ্ঞ। জানালেন মণ্ডপশিল্পী নৃপেন্দ্র নাথ। কেউ ব্যস্ত মণ্ডপের গায়ে রঙের প্রলেপ দিতে, কেউ আবার বাঁশের কারুকার্যে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পের নিপুণতা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মণ্ডপ নির্মাণের কাজ শেষ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ শিল্পীদের কাছে। কারন দর্শনার্থীদের সামনে এবারে এক ব্যতিক্রমী শিল্পসৃষ্টি তুলে ধরতে প্রয়াস নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।