img


গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে বসেছিল এক অভিনব স্বদেশী মেলা।


আইনেট  প্রতিনিধিঃ       প্রদীপের উষ্ণ আলোয় সাজলো গন্ডাছড়া। গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে বসেছিল এক অভিনব স্বদেশী মেলা। একদিকে আলোর উৎসব দীপাবলির আনন্দ, আর অন্যদিকে যুবসমাজকে নেশামুক্ত করার শপথ—সবমিলিয়ে ৬ নভেম্বর ২০২৬ গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের এনএসএস ইউনিট এক অনন্য ও উদ্দীপনামূলক আয়োজনের সাক্ষী থাকল।
​“নেশা মুক্ত যুবা ফর বিকশিত ভারত” এবং ‘দীপাবলি স্নেহ মিলন’-এর যৌথ ভাবনায় এদিনের অনুষ্ঠান রূপ নিয়েছিল এক প্রাণবন্ত জনসমুদ্রে। আধুনিকতার ভিড়ে যখন চায়না বা বৈদ্যুতিক মাল্টি কালারের আলোয় আমাদের ঐতিহ্যবাহী মাটির প্রদীপ আর লোকশিল্প আজ হারিয়ে যাওয়ার মুখে, ঠিক তখনই এলাকার স্থানীয় কুটিরশিল্প এবং হস্তশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এই মেলার আয়োজন এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।
​মেলা প্রাঙ্গণে বসেছিল হরেক রকমের স্টল। কুমারদের হাতে তৈরি মাটির সুন্দর প্রদীপ, নিপুণ কারুকার্যে গড়া বাঁশের নানা সামগ্রী আর মুখরোচক ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন স্থানীয় কারিগররা। শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্থানীয় জিনিসপত্র কিনে শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উপায়ে দীপাবলি উদযাপনের এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে গভীর আনন্দ ও উৎসাহ জাগিয়েছে।
​তবে শুধু কেনাবেচা বা আনন্দোৎসবই নয়, এই আয়োজনের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল যুবসমাজকে সঠিক দিশা দেখানোর একটি বিশেষ সেমিনার। প্রায় ৫০০ জন ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় যুবকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় "নশা মুক্ত যুব" শীর্ষক আলোচনা সভা। মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কৃষ্ণ দেববর্মা প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও সচেতনতা নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্রী থাইসা মগ এবং উপাধ্যক্ষ শ্রী খগেন্দ্র ত্রিপুরা।
​অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন তথা ‘দীপ দান’-এর মাধ্যমে। এর পরই উপস্থিত সকলে মিলে একসঙ্গে মাদকবিরোধী শপথ বা ‘নশা মুক্ত শপথ’ গ্রহণ করেন। উৎসব আর সামাজিক দায়বদ্ধতার এই অপূর্ব মেলবন্ধনে বাড়তি মাত্রা যোগ করে শিক্ষার্থীদের নিখুঁত ও আকর্ষণীয় রঙ্গোলি বা আল্পনা, যা নজর কেড়েছে সবার।
​আধুনিকতার প্রবল স্রোতে যখন আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও কুটিরশিল্পগুলো কোণঠাসা, তখন গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের এনএসএস ইউনিটের এই অভিনব উদ্যোগ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সচেতন যুবসমাজ চাইলে উৎসবের আনন্দকে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সংস্কৃতির সুরক্ষার সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে জুড়ে দিতে পারে। স্থানীয় মানুষও এই মহৎ উদ্যোগে অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত।