
আইনেট প্রতিনিধিঃ স্বাদে, গন্ধে ও গুণমানে অনন্য। শুধু ত্রিপুরা কিংবা উত্তর-পূর্ব ভারতেই নয়, উদয়পুরের ঐতিহাসিক মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী পেঁড়ার সুখ্যাতি আজ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও। মাতাবাড়িতে আগত ভক্তদের কাছে পেঁড়া শুধুমাত্র একটি মিষ্টি নয়, বরং মায়ের প্রতি ভক্তি, বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মায়ের প্রধান প্রসাদ হিসেবেই পরিচিত এই পেঁড়া। আর এই ঐতিহ্যবাহী পেঁড়া ইতিমধ্যেই পেয়েছে জিআই স্বীকৃতি। যার ফলে মাতাবাড়ির পেঁড়ার পরিচিতি ও গুরুত্ব আরও এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সামনেই আলোর উৎসব দীপাবলি। হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন। আগামী ৮ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে চলেছে উদয়পুরের ঐতিহাসিক মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী দীপাবলি উৎসব ও মেলা। সতীর একান্ন পীঠের অন্যতম পীঠস্থান এই মাতাবাড়ির দীপাবলি উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই বসে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ দেওয়ালি মেলা। এই উৎসবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দেশের নানা রাজ্য থেকে অগণিত পুণ্যার্থী ও পর্যটকের সমাগম ঘটে। এমনকি প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ-সহ বিদেশ থেকেও বহু ভক্ত, পর্যটক, সাধু-সন্ন্যাসীরা ছুটে আসেন মায়ের দর্শন লাভের উদ্দেশ্যে।
মাতাবাড়ির এই দীপাবলি উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ মায়ের কাছে পেঁড়া প্রসাদ নিবেদন। ভক্তদের বিশ্বাস, মায়ের চরণে পেঁড়া নিবেদন করলে মায়ের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। তাই মন্দিরে পুজো দিতে আসা অধিকাংশ ভক্তই পেঁড়া কিনে মায়ের উদ্দেশ্যে ভোগ নিবেদন করেন। আর সেই বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই দীপাবলি উৎসবের সময় মাতাবাড়ির পেঁড়ার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই আসন্ন দীপাবলি মেলাকে সামনে রেখে এখন থেকেই চরম ব্যস্ততা শুরু হয়েছে মাতাবাড়ির পেঁড়ার দোকানগুলিতে। দোকানে দোকানে চলছে পেঁড়া তৈরির প্রস্তুতি। দোকানের মালিক থেকে শুরু করে কর্মচারী, প্রত্যেকেই এখন ব্যস্ত পেঁড়া তৈরির কাজে। দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন ক্ষীর তৈরি করা, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তা পাকানো এবং পরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পেঁড়ার আকার দেওয়া—সব মিলিয়ে চলছে নিরন্তর কর্মযজ্ঞ। উৎসবের দিনগুলিতে যাতে কোনওভাবেই পেঁড়ার ঘাটতি না হয়, সেই লক্ষ্যেই দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন ব্যবসায়ীরা।